Type Here to Get Search Results !

প্রেমের আঘাত থেকে জন্ম নেওয়া মানসিক যন্ত্রণা: কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

saradinnews24
ছবি: সংগৃহীত

\লাইফস্টাইল

২ মিনিটে পড়ুন


ভালোবাসার জালে আবদ্ধ হয়েও যখন হৃদয় বিদ্ধ হয় প্রত্যাখ্যানের তীরে, তখন একজনের পুরো অস্তিত্বই যেন ভেঙে পড়ে। শুধু মনই নয়, সামাজিক অবস্থানও হয়ে উঠতে পারে হাসির খোরাক। এমন পরিস্থিতিতে জীবনের গতিধারা অবিরাম চললেও প্রত্যাখ্যানের দগদগে ক্ষত কিছু মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলে যায়। মনোবিদ্যার পরিভাষায় এই মানসিক সংকটকে চিহ্নিত করা হয় **'প্রত্যাখ্যানজনিত আঘাত'** (রিজেকশন ট্রমা) নামে।  


একতরফা সম্পর্ক বা হঠাৎ বিচ্ছেদের মাত্রা যদি তীব্র হয়, তাহলে এর প্রভাব হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী। প্রেম কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ—যেকোনো ক্ষেত্রেই এক পক্ষের আকস্মিক সরে যাওয়া অন্যজনের মনে জন্ম দিতে পারে সংকট। এমন আঘাতে মানুষের আত্মবিশ্বাসে চিরে যায় গভীর ফাটল। নিজেকে অনুভব করা শুরু হয় 'অপূর্ণ' বা 'অযাচিত' হিসেবে। শুধু তাই নয়, অন্যদের প্রতি অবিশ্বাসও গ্রাস করতে পারে হৃদয়। স্কয়ার হাসপাতালের মনোবিদ ডা. শারমিন হকের মতে, **"প্রত্যাখ্যান শুধু সম্পর্কই নষ্ট করে না, ব্যক্তির আত্মপরিচয় ও বিশ্বাসের ভিতকেও নড়বড়ে করে দেয়।"**  


আরও পড়ুন:  ‘স্যার’ সম্বোধন না করার কারণে এসপির যা ঘটনা ঘটালেন



আত্মজীবনে কী ঘটে? 

প্রত্যাখ্যানের পর মানুষ নিজের চোখেই হয়ে পড়েন 'অপাঙ্ক্তেয়'। জন্ম নেয় আত্মসংঘাত—নিজের প্রতি ক্রোধ বা লজ্জা। অনেকেই ডুবে যান বিষণ্নতার গহ্বরে। দৈনন্দিন কাজে অনীহা, খাদ্য ও ঘুমের অভ্যাসে বিপর্যয়, মনোযোগের অভাব—এসব লক্ষণ দেখা দেয়। আবেগীয় অস্থিরতা বাড়ে, কখনো নিজের ক্ষতির দিকেও এগিয়ে যান কেউ কেউ।  


সম্পর্কের জগতে প্রভাব:

প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা মানুষকে করে তোলে সন্দেহপ্রবণ। নতুন সম্পর্কে জড়ানোর ভয়, পেশাগত ক্ষেত্রেও সহকর্মীদের প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কা—এসব উদ্বেগ পেয়ে বসে। অনেকের মেজাজ হয়ে ওঠে বিষাদময় বা রুক্ষ, যা সামাজিক সম্পর্ককে করে তোলে জটিল।  


উদ্বেগ থেকে মুক্তির পথ:  

এই যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগে মাস কিংবা বছর। তবে কিছু কৌশল মেনে চললে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব:  


১. নিজেকে সান্ত্বনা দিন: জীবনের চাকায় সুখ-দুঃখ আবর্তিত হয়। প্রত্যাখ্যান কোনো ব্যক্তির 'মূল্য' নির্ধারণ করে না। এটি শুধু একটি পরিস্থিতি, যা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।  


২. ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি: নিজের সাফল্য, গুণাবলি এবং অর্জনগুলো বারবার স্মরণ করুন। নেতিবাচক চিন্তাকে প্রশ্ন করুন—"সত্যিই কি আমি অযোগ্য?"  


৩. সমর্থন নেটওয়ার্ক: পরিবার বা বন্ধুর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। তাদের ভালোবাসাই আপনাকে শক্তি দেবে।  


৪. নিজের যত্ন: শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মনের খোরাক জোগান। শখের কাজ, বই পড়া, যোগব্যায়াম বা ভ্রমণে মন দিন।  


৫. পেশাদার সাহায্য: যদি উদ্বেগ দৈনন্দিন জীবনকে অচল করে তোলে, মনোবিদ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন।  


মনে রাখুন:পৃথিবীতে আপনার উপস্থিতি অনন্য। একজন মানুষের প্রত্যাখ্যান আপনার সত্ত্বার মাপকাঠি নয়। আত্মবিশ্বাস আর ধৈর্য্য দিয়ে এই আঘাতই আপনাকে করে তুলতে পারে আরও বেশি সংবেদনশীল ও শক্তিশালী।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.