২ মিনিটে পড়ুন
অনলাইন ডেস্ক
ঝিনাইদহের মতিউর রহমান সাগর এবং কুষ্টিয়ার তানজির শেখ। প্রায় ৯ মাস ধরে তারা লিবিয়ায় বন্দি জীবন কাটিয়েছেন। সেখানে দালালদের হাতে তারা অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে দালালরা নিশ্চিত হয়ে যায় যে তাদের বেঁচে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে, তাদের ফেলে রেখে চলে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক আল আমিন নয়ন শেয়ার করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ফেসবুকে ভুক্তভোগী দুজনের ছবি সহ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, আজ সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের গল্প দেখার পর তিনি তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিতে শুরু করেন। অনেক চেষ্টার পর তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তখনই তিনি জানতে পারেন এক ভয়াবহ বাস্তবতা। ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে গ্রামের দালালরা তাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। ২০২৩ সালে প্রত্যেকের কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে তাদের লিবিয়ায় পাঠানো হয়। দালালরা তাদের কম্পানির ভালো কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেখানে কোনো কাজের ব্যবস্থা ছিল না।
এরপর দালালরা তাদের ইতালি পাঠানোর লোভ দেখায়। বাধ্য হয়ে তারা সেই ফাঁদে পা দেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরো ভয়ঙ্কর। দালালরা তাদের মাফিয়াদের হাতে বিক্রি করে দেয়। অন্ধকার একটি ঘরে প্রায় ৮০ বাংলাদেশিকে বন্দি করে রাখা হয়। সেখানে তাদের উপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। রড, লাঠি, বৈদ্যুতিক শক—প্রতিদিন চলত নৃশংস অত্যাচার। তারা নিজ চোখে অনেক বাংলাদেশির মৃত্যু দেখেছেন, লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন।
একসময় মাফিয়ারা নিশ্চিত হয় যে সাগর ও তানজিরের বেঁচে ফেরার কোনো আশা নেই। মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা এই দুই তরুণকে ফেলে রেখে নির্যাতনকারীরা চলে যায়। ভাগ্যক্রমে তারা বেঁচে ফিরতে পেরেছেন। আজ দুপুরে তাদের সাথে কথা বলেছি। কাঁপা কাঁপা গলায় তারা সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা বলেছেন। তাদের ছবিগুলো দেখলে চোখ ফেরানো কঠিন। তাদের ক্ষতবিক্ষত শরীরই বলে দেয়, কী নরকযন্ত্রণা তারা পেরিয়ে এসেছেন।
এই প্রতারণার জাল গুটিয়ে ফেলতে হবে। দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে আরো কত সাগর, কত তানজির এভাবে হারিয়ে যাবে, আমরা তা জানতেও পারব না!
