বিদেশি ক্রিকেটার ছাড়া একাদশ এবং স্বল্প পুঁজি নিয়েও শক্তিশালী রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর অসাধারণ বোলিংয়ে ২ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছে দলটি। এর ফলে প্লে-অফে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হলো তাদের।
মিরপুরে রোববার (২৬ জানুয়ারি) ১২০ রানের সহজ লক্ষ্য পেলেও জয়ের দেখা পায়নি রংপুর। রান তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানে থামে সোহানের দল। ৩১ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে ব্যর্থ হন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। অন্যদিকে, রাজশাহীর জয় এনে দেওয়া নায়ক ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, যিনি ১৮ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ফিরিয়ে দেন স্টিভেন টেইলরকে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাটার ৪ বলে করেন মাত্র ২ রান। এরপর রংপুরের বিপর্যয়কে আরও ত্বরান্বিত করেন মৃত্যুঞ্জয়। একে একে তিনি সাজঘরে ফেরান সাইফ হাসান (০), সৌম্য সরকার (৮), মেহেদী হাসান (০) এবং অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে (২)। ফলে মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং ধস নামে রংপুরে।
পরে ইফতিখার আহমেদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, তবে মোহর শেখের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন। পাকিস্তানি এই ব্যাটার করেন ২০ বলে ১৪ রান। এরপর ১৮ রানেই খুশদিল শাহ মোহরের সুইংয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তিনি করেন ১৮ বলে ১০ রান।
রংপুরের জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন সাইফউদ্দিন ও রাকিবুল হাসান। অষ্টম উইকেটে তাদের ৪২ রানের পার্টনারশিপ ভাঙে ১৯তম ওভারে। রাকিবুল ২২ বলে ২০ রান করে তাসকিন আহমেদের শিকার হন। এই উইকেট শিকার করে তাসকিন বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নতুন রেকর্ড গড়েন। চলতি আসরে তার শিকার ২৪ উইকেট, যা এর আগে ২০১৯ সালের আসরে সাকিব আল হাসানের করা ২৩ উইকেটের রেকর্ড ভেঙে দেয়।
শেষ ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। তাসকিন বল তুলে দেন জিসান আলমের হাতে। প্রথম দুই বলেই সাইফউদ্দিন ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও পরের দুই বলে ডট আদায় করেন জিসান। শেষ দুই বলে চার ও ছক্কায় সাইফউদ্দিন ফিফটি পূর্ণ করলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি।
রাজশাহীর হয়ে মৃত্যুঞ্জয় ছাড়াও তাসকিন ও মোহর শেখ নেন ২টি করে উইকেট।
এর আগে বিদেশি ক্রিকেটারদের ছাড়াই মাঠে নামে রাজশাহী। পারিশ্রমিক না পাওয়ায় বিদেশি খেলোয়াড়রা এদিন খেলতে রাজি হননি। বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দলে অন্তত দুজন বিদেশি খেলোয়াড় থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, বিসিবির বিশেষ অনুমতিতে রাজশাহী শুধুমাত্র দেশি খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামে।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রাজশাহীর শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ৬৭ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে শতরানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কা ছিল। তবে সানজামুলের ২৯ বলে ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস এবং তাসকিনের ৮ বলে ১৩ রান দলকে ৯ উইকেটে ১১৯ রানে নিয়ে যায়। অন্যদের মধ্যে আবার আলী ১২ বলে ১৯, এনামুল হক ১৬ বলে ১৩, সাব্বির হোসেন ১৩ বলে ১১ আর মৃত্যুঞ্জয় ১০ বলে ১০ রান করেন।
রংপুরের হয়ে খুশদিল শাহ ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন। সাইফউদ্দিন ও রাকিবুল নেন ২টি করে উইকেট।
এদিকে, টানা ৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকা রংপুরকে দুই ম্যাচে হারিয়ে প্লে-অফের আশা টিকিয়ে রাখে রাজশাহী। ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। শেষ ম্যাচটি জিতলে তাদের প্লে-অফ নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে। তবে ৯ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে খুলনা টাইগার্সের সুযোগ এখনো বেশি।
প্লে-অফ নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি দলকে টেবিলের সেরা চারে থাকতে হবে।
